শিরোনাম

সাইপ্রাসে স্বপ্নভঙ্গ: কাজহীনতায় দিশেহারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশনার সময়: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন

 

উচ্চশিক্ষা ও কাজের আশায় ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস-এ পাড়ি দিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। দালালদের প্রলোভন, কাজের সংকট ও আর্থিক চাপে তাদের অনেকের জীবন এখন একপ্রকার দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সাইপ্রাসে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে বিদেশে এলেও বাস্তবে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শেখ আবদুল আহাদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কয়েক মাস ধরে কাজের খোঁজ করেও তিনি কোনো চাকরি পাননি। টাকার অভাবে কখনো কখনো না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান জাহিদ আহমেদ। পাঁচ মাস আগে সাইপ্রাসে এলেও এখনো কাজ পাননি তিনি। দেশের ঋণের চাপ আর অনিশ্চয়তায় প্রতিনিয়ত মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাইপ্রাসে যেতে একজনকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। বেশিরভাগই ঋণ নিয়ে এই খরচ জোগান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ না পাওয়ায় অনেক পরিবারকে জমি-জমা বিক্রি করেও সেই ঋণ শোধ করতে হচ্ছে।

অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মতে, সাইপ্রাসে স্টুডেন্ট ভিসা চালু ও বন্ধের একটি চক্র রয়েছে। এই সুযোগে বিভিন্ন দালালচক্র বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী এনে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়, যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও নীরবে মেনে নেয়।

সাইপ্রাস মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—গ্রিক নিয়ন্ত্রিত অংশ এবং তুর্কি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাংশ। তবে এই বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী দেশ ছাড়ার আগে অবগত থাকেন না। ফলে সেখানে গিয়ে তারা নতুন করে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন।

দেশটিতে কাজের সুযোগ সীমিত হওয়াও বড় একটি সমস্যা। কৃষি বা শিল্পখাত তেমন শক্তিশালী নয়, বরং পর্যটননির্ভর হওয়ায় সারা বছর কাজের সুযোগ থাকে না। ফলে দক্ষতা ছাড়া কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যারা শেফ, মেকানিক বা কারিগরি কাজ জানেন, তাদের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী এসব দক্ষতা নিয়ে যান না।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকাও বাধ্যতামূলক। এতে কাজ খোঁজা বা কাজ করার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ে। অনেকেই দীর্ঘদিন কাজ না পেয়ে ভিসা নবায়নের খরচ জোগাতে না পেরে অবৈধ অবস্থায় চলে যান।

ছাত্রীদের অবস্থাও একইভাবে কঠিন। স্থানীয়দের দখলে থাকা চাকরির বাজারে বিদেশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাসাবাড়ির কাজ, পরিচ্ছন্নতা বা ছোটখাটো অনলাইন ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, সাইপ্রাসে আসার আগে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বিদেশের স্বপ্ন খুব দ্রুতই কঠিন বাস্তবতায় ভেঙে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন