যে ছোট্ট আমলে আপনিও পেতে পারেন রাসূল (সা.) এর সুপারিশ
পরকালের কঠিন ও ভয়াবহ মুহূর্তে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ লাভ করা মুমিনদের জন্য এক বিরাট সৌভাগ্য ও আল্লাহর বিশেষ রহমত। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নবিজির সুপারিশ লাভের জন্য বেশি বেশি আমল করা এবং দোয়া করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে অন্তরের ইখলাসের সঙ্গে বলে— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত কোনো উপাস্য নেই)।”
— (সহিহ বুখারি)
সুপারিশ পাওয়ার জন্য দোয়া
নবিজির সুপারিশ পাওয়ার আশায় মুসলমানরা আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে পারেন—
আরবি:
اَللَّهُمَّ ارْزُقْنَا شَفَاعَةَ نَبِيِّكَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মার যুক্বনা শাফাআতা নাবিয়্যিকা।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের আপনার নবির সুপারিশ দান করুন।
এ ছাড়া নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরুদ পড়াও সুপারিশ লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
দরুদ:
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সুপারিশ পাওয়ার শর্ত
নবিজির সুপারিশ লাভের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—
১. আল্লাহর অনুমতি
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না।
“কে সেই ব্যক্তি, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে?”
— (সুরা বাকারা: ২৫৫)
২. আল্লাহর সন্তুষ্টি
সুপারিশকারী ও যার জন্য সুপারিশ করা হবে— উভয়ের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকতে হবে।
— (সুরা আম্বিয়া: ২৮)
৩. ঈমানদার হওয়া
সঠিক ঈমান ছাড়া কেউ নবিজির সুপারিশ পাবে না। কাফের ও মুশরিকদের জন্য সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।
— (সুরা মুদ্দাসসির: ৪৮)
সুপারিশের ধরন
কিয়ামতের দিন সুপারিশ প্রধানত দুই ধরনের হবে—
বিশেষ সুপারিশ
এটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ মর্যাদা। হাশরের ময়দানে বিচার শুরু হওয়ার জন্য তাঁর মহাসুপারিশকে শাফাআতে কুবরা বলা হয়। এটিই নবিজির মাকামে মাহমুদ।
এ ছাড়া তিনি তাঁর উম্মতের কিছু মানুষের জন্য জান্নাতে প্রবেশ, পাপ-পুণ্য সমান হলে মুক্তি এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও সুপারিশ করবেন।
সাধারণ সুপারিশ
নবিজি ছাড়াও অন্যান্য নবি-রাসুল, ফেরেশতা, মুমিন ও শহীদরাও সুপারিশ করবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“প্রত্যেক নবির একটি কবুল দোয়া রয়েছে। তারা তাদের দোয়া শেষ করে দিয়েছেন। আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশের উদ্দেশ্যে আমার দোয়াটি রেখে দিয়েছি।”
— (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
আরেক হাদিসে এসেছে—
“একজন শহীদের সুপারিশ তার পরিবারের সত্তর জনের জন্য গ্রহণ করা হবে।”
— (আবু দাউদ)
উপসংহার
পরকালে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ লাভ করা মুমিনদের জন্য এক বড় নেয়ামত। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা, বেশি বেশি দোয়া করা এবং দরুদ পাঠ করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন

