ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা: উত্তেজনায় তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়ালো, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে হামলার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ১১২ ডলারে পৌঁছে, যা আগের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও পরে কিছুটা কমেছে, তবুও বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্যও প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৩.৫৩ পেন্স প্রতি থার্মে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে দাম কিছুটা কমলেও অস্থিরতা কাটেনি।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলেও হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি চলমান সংকটের শুরুতে দেখা সর্বোচ্চ দামের নিচেই রয়েছে। এর আগে মার্চের শুরুতে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছিল এবং যুক্তরাজ্যের গ্যাসের মূল্যও আরও বেশি ছিল।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাউথ পার্সে সৃষ্ট আগুন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার জবাবে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছে, শুধু পাল্টা আঘাতই নয়, প্রয়োজনে হামলার উৎসস্থলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে কাতার, যা বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে চলতি মাসের শুরুতে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান এলাকায় আগুন লাগার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন

