শিরোনাম

আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ছাড়ার প্রস্তাবে রাজি নন শেখ হাসিনা

প্রকাশনার সময়: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর দেড় বছর পরও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির ভেতরে একসময় যে ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচনা ছিল, সেটিও এখন প্রায় থেমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা পুরোনো অবস্থানে অনড় থাকায় সংস্কারের সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিতর্কিত নেতাদের সরিয়ে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্যদের সামনে আনার কথাও বলা হয়। তবে শেখ হাসিনা নেতৃত্ব ছাড়তে রাজি হননি। সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে নিজের ঘনিষ্ঠ ও বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন নেতাকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তা সংস্কারপন্থীদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

বর্তমানে দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাবেক এমপি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। অনেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা সহজ হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ভারত, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থাকা নেতাদের অনেকে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশঙ্কায় কেউ কেউ ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়া বা সাইপ্রাসের মতো অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।

দলের অভ্যন্তরে এখনো কট্টরপন্থী নেতারাই বেশি সক্রিয়। তারা শেখ হাসিনার বিকল্প নেতৃত্ব মানতে নারাজ এবং অতীতের ভুল বা বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে অনুশোচনার পক্ষেও নন। তাদের ধারণা, বর্তমান সরকার বড় কোনো রাজনৈতিক ভুল করলে বা জনপ্রিয়তা হারালে আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা আওয়ামী লীগের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার ভাষায়, গত দেড় দশকের শাসনামল নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনার পথই দলটির জন্য বেশি কার্যকর হতো। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতমুখী রাজনীতি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা নেতাদের সংগঠিত করার দায়িত্ব পালন করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত একটি অংশ অনলাইনে দলীয় প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে বলেও জানা গেছে।

সোর্স: প্রথম আলো

মন্তব্য করুন