এলাকার মেম্বারকে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট ভাইরাল
রাজনীতির মাঠে বড় বড় বক্তব্য, প্রচারণা আর আলোচনার ভিড়ে অনেক সময় হারিয়ে যায় কিছু নীরব কিন্তু দৃঢ় মানুষ। তেমনই এক অনুচ্চারিত নাম—মনির মেম্বার, বড় শালঘর ইউনিয়নের একজন সাধারণ প্রতিনিধি, যিনি নিজের অবস্থান থেকে দেখিয়েছেন অটল বিশ্বাস আর আনুগত্যের বিরল উদাহরণ।
নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় এক ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় মনির মেম্বারকে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের একজন ব্যক্তি বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “হাসনাতের দল করে লাভ কী? হাসনাত তো কেন্দ্রে এজেন্টও দিতে পারবে না। ওর দল করা ছেড়ে দেন।”
কিন্তু জবাবে মনির মেম্বারের দৃঢ় উচ্চারণ ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “যদি হাসনাত দুইটা ভোট পায়, তাহলে একটা হাসনাতের নিজের আর একটা আমার। আর যদি একটা ভোটও পায়, সেটাও হবে মনির মেম্বারের।”
এই কথাগুলোই প্রকাশ করে তার অটল অবস্থান এবং বিশ্বাসের শক্তি।
এই ঘটনার পরই তার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় হয়। সময় গড়িয়ে নির্বাচনে জয় আসে। কিন্তু জয়ের পর দেখা করতে না আসার কারণ জানতে চাইলে মনির মেম্বারের উত্তর ছিল আরও গভীর ও অর্থবহ।
তিনি বলেন, “খেলোয়াড় ট্রফি দেখতে আসে না, খেলোয়াড় ট্রফি জিততে আসে। আমাদের জেতা শেষ, আমরা এখন পরের ম্যাচের ট্রফি জেতার প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে দর্শক দেখতে পারে।”
শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিও ছিল তার কথায়। মনির মেম্বার জানান, “আবার যখন আপনার দরকার পড়বে, আপনাকে আমাদের খুঁজতে হবে না। মাঠে যদি একজন মানুষও আপনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, বুঝবেন, এই মনির মেম্বার তখনও সেই একই জায়গাতেই আছে।”
রাজনীতির হিসাব-নিকাশের বাইরে দাঁড়িয়ে এমন মানুষরাই আসলে পরিবর্তনের পথ দেখান। যারা প্রচারের আলোয় আসেন না, কোনো দাবি তোলেন না, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ান।
এইসব মনির মেম্বারদের প্রতিই কৃতজ্ঞতা—যারা ভিড়ের বাইরে থেকেও শক্তি জোগান, স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিঃশব্দে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন।
মন্তব্য করুন

