শিরোনাম

মাদক মামলার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশনার সময়: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব

বিদ্যমান মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কারণে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধিত আইনটি সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, সংশোধিত আইনে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান আইনি কাঠামো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সীমিত সক্ষমতার কারণে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই ব্যাহত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম নেই। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানা না থাকায় কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে মাদক শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দকৃত মাদকের পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা সমাধানে সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মাদক মামলার জটিলতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজার এবং কক্সবাজারে ১৮ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মামলার চাপের কারণে বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী ও আধুনিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইনও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বেসরকারিভাবে পরিচালিত ৭৩টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে মোট এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এ সময় কেন্দ্রগুলোর মালিকদের বিদ্যমান বিধিমালা ও গাইডলাইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন