যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক এক শান্তি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর উদ্দেশে তেলের সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখার আহ্বান জানান।
সমঝোতার মূল ১৪টি দফা
সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা এই খসড়া চুক্তির মূল ১৪টি শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে।
২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করবে।
৩. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে।
৪. ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
৫. ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হবে এবং ইরানকে তার জ্বালানি আয়ের ওপর পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
৬. ইরানের যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও অর্থায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রস্তাব রেখেছে।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি বিশেষ আলোচনা শুরু হবে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৮. ইরান ‘পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’র (এনপিটি) আওতায় পুনরায় নিশ্চিত করবে যে তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা উন্নয়ন করবে না।
৯. এই অন্তর্বর্তীকালীন আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নতুন কোনো সেনা মোতায়েন করতে পারবে না।
১০. আলোচনাকালীন সময়ে ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না।
১১. আলোচনা চলাকালেই ইরানের স্থগিত থাকা ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট বা সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।
১২. চুক্তির শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা কমিটি গঠন করা হবে।
১৩. এই চূড়ান্ত চুক্তির বৈধতার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সমর্থন নেওয়া হবে।
১৪. ইরানের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র বা সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি এই আলোচনার আওতার বাইরে (সম্পূর্ণ নিরাপদ) রাখা হবে।
মন্তব্য করুন

