জ্বালানি সংকট নিরসনে নতুন সিদ্ধান্ত: অফিস-ব্যাংকের সময় কমলো, শপিংমল বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচন ও নতুন অফিস সময়সূচি চালু করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুসারে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা। বর্তমানে অফিস চলতো বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বৈঠক শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাপ কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।”
তিনি জানান, আগামী তিন মাস সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান বা কম্পিউটার সামগ্রী কেনা হবে না। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয়ও ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে আরও আলোচনা চলছে। রবিবার থেকে আলোচনা শুরু হয়ে সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে যাতে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সরকারি স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা বাস দেন, তাদের ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্ক থাকবে। পুরনো বাস আমদানি করা যাবে না।
কোনো বিবাহ বা উৎসবে আলোকসজ্জা করা যাবে না। বেসরকারি অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিলেও ব্যয় ও ব্যবহার সংকোচনের আহ্বান জানানো হয়েছে। খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকানসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমরা সাপ্লাই চেইন সচল রাখার চেষ্টা করছি। তেল আমদানির ৮০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকেও বিকল্প উৎস তৈরি করা হচ্ছে।”
সরকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে ক্যাবিনেট পর্যায়ে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।
মন্তব্য করুন

