যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত—দেশটির গণমাধ্যমের দাবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির গণমাধ্যম।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি আলাদাভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার কথা জানায়। একইদিন সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন।
দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে হামলা চালানোর সময় খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঠিক আগে খামেনি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি ও আলি শামখানি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যায়, ভবনটির বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এতে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনার আগে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, খামেনি ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট ব্যক্তি এবং তার মৃত্যুকে তিনি ইরানের জনগণ ও বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই অভিযান সফল হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস, সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার অনেক সদস্য আর লড়াই করতে আগ্রহী নন এবং তারা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরান সরকার ৭ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন

