শিরোনাম

কসবায় নারী সেজে অশ্লীল কনটেন্ট: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা থানায় মুচলেকা

প্রকাশনার সময়: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নারী সেজে অশ্লীল ও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান ইসলামকে থানায় তলব করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে কসবা থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। তিনি জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রেদোয়ান ইসলামকে থানায় ডাকা হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি পুরুষ এবং আর কখনো নারী সেজে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল রেদোয়ান ইসলাম ও রিংকু সরকার রবিনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগে বলা হয়, তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নারী সেজে বিভিন্ন অশ্লীল ও আপত্তিকর কার্যকলাপে জড়িত। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কিশোর-তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে রেদোয়ান ইসলামকে কাঁদতে কাঁদতে চুল কাটতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করার মতো ভয়ংকর যুদ্ধ আর কি হতে পারে।” পরবর্তীতে একই আইডি থেকে আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, “মৃত্যু দিয়েই একদিন মুক্তি মিলবে আমি নামক কালো অধ্যায়ের।”— যা সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, নারী সেজে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ‘জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের’ অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রেদোয়ান ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পুরুষ পরিচয়ে পদ পাওয়া রেদোয়ানের বিষয়ে পরবর্তীতে ভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে পরিচিত ওই আইডিটি প্রায় ২৫ হাজারের বেশি অনুসারী নিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ঘটনার পর থেকে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন