দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, শর্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর বিশেষ অনুরোধে ইরানে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর অনুরোধে পূর্বনির্ধারিত হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে ইরানকে। এ শর্ত পূরণ হলে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এখন দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ‘বিধ্বংসী পরিণতি’ ডেকে আনা হবে। এর জেরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তেহরান।
এদিকে, সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে এসব হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরানসহ কারাজ, তাবরিজ, কাশান ও কোম অঞ্চলে একাধিক রেললাইন ও অন্তত আটটি সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আগে দেশটির জনগণকে সাময়িকভাবে রেলপথ এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, সাময়িক বিরতির আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও নজরদারি আরও বেড়েছে।
মন্তব্য করুন

