শিরোনাম

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বিরতির পর, ১৫ শতাংশ কমলো জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশনার সময়: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ভূমিকম্পের মতো ধস নেমেছে। একদিনের মধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বড় একক দিনের পতনের মধ্যে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুসারে, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করার পথ খুলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে প্রণালীটি কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছিল এবং দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল।

বাজারের তথ্য অনুসারে, লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ৯৩ ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১৪.৭ শতাংশ পড়ে ৯৬ ডলারের নিচে চলে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতনের মূল কারণ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং সরবরাহ সংকটের অবসানের প্রত্যাশা।

যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওয়াল স্ট্রিটের ফিউচার্সও লাফিয়ে উঠেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও স্বস্তির ঢেউ বয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি মাত্র দুই সপ্তাহের বিরতি। পূর্ণ শান্তি চুক্তি না হলে দাম আবার উঠতে পারে।

বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই খবর স্বস্তির। জ্বালানি তেলের দাম কমলে আমদানি ব্যয় কমবে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা সাময়িক বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতদূর অগ্রসর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। বাজার এখন সেই দিকেই চোখ রাখছে।

মন্তব্য করুন