নেতানিয়াহুর ছয় আঙুল, আবারো মৃত্যুর গুঞ্জন

প্রকাশনার সময়: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–কে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত ভিডিওটিতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলে দাবি করে অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন—ভিডিওটি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি?

ভিডিওটি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বে টুইটার)–এ শেয়ার করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। দাবি করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন ১৫তম দিনে পৌঁছেছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয় এবং দ্রুতই বিতর্ক শুরু হয়। অনেক পোস্টে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে, যা ‘ক্ল্যাসিক এআই গ্লিচ’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ত্রুটি হতে পারে। কেউ কেউ আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু আর বেঁচে নেই এবং তাঁর পুরোনো বা এআই–নির্মিত ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েন্স। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়? কেন তাঁর দপ্তর এআই ভিডিও প্রকাশ করছে এবং কেন হোয়াইট হাউস–এ গণআতঙ্ক বিরাজ করছে?”

তবে এসব দাবি নাকচ করেছে এক্সের নিজস্ব এআই চ্যাটবট গ্রোক। তাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর হাতে স্বাভাবিকভাবেই পাঁচটি আঙুল রয়েছে। ভিডিওতে পোডিয়ামের দিকে নির্দেশ করার সময় হাতের ভঙ্গি এবং ক্যামেরার কোণের কারণে একটি দৃষ্টিভ্রম বা অপটিক্যাল ইলিউশন তৈরি হয়েছে।

গ্রোক আরও জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজবের কোনো ভিত্তি নেই এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত খবরগুলো ভুয়া।

তবে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার চলাকালে হঠাৎ অনুষ্ঠান ছেড়ে যেতে দেখা যায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট–কে। তাঁকে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিলম্বে তাঁকে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ দেখতে চাচ্ছেন।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকলেও গত ৯ মার্চের পর থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো পোস্ট দেখা যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে অনলাইনে নানা জল্পনা–কল্পনা আরও বাড়ছে।

মন্তব্য করুন