ময়মনসিংহে ছেঁড়া-ফাটা নোটে ভোগান্তি, হাটবাজারে অচল টাকার দাপট

প্রকাশনার সময়: ৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাটবাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বিশেষ করে পুরোনো ৫, ১০ ও ২০ টাকার কাগজের নোট লেনদেনের সময় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ছোট অঙ্কের এই নোটগুলো বাজারের দৈনন্দিন লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হলেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উভয় পক্ষই সমস্যায় পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ছেঁড়া নোট নিয়ে বাজারে প্রায়ই বিবাদ সৃষ্টি হয়। ভালুকা পৌর সদরের এক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ক্রেতারা ছেঁড়া টাকা দিয়ে কেনাকাটা করেন, কিন্তু একই টাকা দিলে নিতে চান না। এতে করে দোকানদারদের অযথা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় দিনের শেষে দোকানে জমা হয় অচল হয়ে পড়া বেশ কিছু নোট, যা ব্যাংকে জমা দিতেও ঝামেলা পোহাতে হয়।

পরিবহন খাতেও একই চিত্র। অটোরিকশাচালক ইয়াসিন মিয়া জানান, ছেঁড়া নোট নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হয়। কেউ কেউ জোর করে ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেন। আবার ফেরত দেওয়ার সময় একই নোট নিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সবাই চেষ্টা করে ছেঁড়া টাকা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে।

 স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে এখনো কাগজের নোটের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু এসব নোটের স্থায়িত্ব খুবই কম। সাধারণত ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যেই কাগজের নোট ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছোট অঙ্কের নোট দ্রুত হাতবদল হয় বলে সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে কয়েন তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এর ব্যবহার সীমিত। ফলে বাজারে ছোট অঙ্কের লেনদেনে কাগজের নোটের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সবাইকে।

মন্তব্য করুন