ইরানে আবারো যুদ্ধের আশংকা, অস্ত্র হাতে রাজপথে সাধারণ নাগরিকরা
হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানে নাগরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরানজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের প্রাথমিক অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী তেহরানের হাফতে তির স্কয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী প্রশিক্ষণ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সামরিক পোশাকধারী সদস্যরা নারী, পুরুষ এবং কিশোরদের আগ্নেয়াস্ত্রের মৌলিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। কোথাও নারীদের রাইফেল খোলা–জোড়া লাগানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু জায়গায় শিশুদেরও প্রতীকীভাবে অস্ত্র ব্যবহারের অনুশীলন করতে দেখা গেছে।
এদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত শান্তিচুক্তিতে না এলে দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তার এই বক্তব্যের পরই তেহরানে বড় ধরনের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারপন্থী ওই সমাবেশে শত শত মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই দেশজুড়ে এমন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও নাগরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কিছু টেলিভিশন উপস্থাপককেও সরাসরি সম্প্রচারে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। একটি রাষ্ট্রীয় চ্যানেলের উপস্থাপক জানান, তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্যদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং জনগণকে প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান সরকার জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতির বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরছে।
মন্তব্য করুন

