দুদকের মামলায় জামিন পেলেন আনিস আলমগীর, কারামুক্তিতে বাধা নেই
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি। তিনি জানান, আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলাতেই আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি-২ এলাকায় একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান ২৫ জানুয়ারি আদালতে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। তবে অনুসন্ধানে তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে পাওয়া মোট আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয়, টকশো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়, প্লট বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। তদন্তে এই অর্থকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় উচ্চ আদালতও আনিস আলমগীরকে জামিন প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন

