শিরোনাম

বাতিল হচ্ছে বাংলাসহ ৬ বিষয়ের অনার্স কোর্স, প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে গুরুত্ব

প্রকাশনার সময়: ৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়কে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পড়ানো হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে।

শিক্ষাকে কর্মসংস্থানমুখী করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়। কলেজ পর্যায়ে চালু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হবে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরকার সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি করাই নতুন শিক্ষানীতির লক্ষ্য।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা এবং পরীক্ষার সময়কাল কমানোর পরিকল্পনাও করছে সরকার। বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলার কারণে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ে। নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য এসব সমস্যা কমানো।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এতে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ে পাঠদান শুরু হবে, আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালে বর্তমান শিক্ষাক্রম সংশোধন করে বাস্তবসম্মত রূপ দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সালে বড় ধরনের পরিবর্তনসহ নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে।

মন্তব্য করুন