১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করল সরকার
সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। ফলে আগামীতে এসব শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্তরে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অনেকেই মনে করেন, লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের সুযোগ থাকে না এবং এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
করোনা মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে ভিড় ও প্রতিযোগিতা কমাতে প্রথমে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। পরে তা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চালু থাকে। এই ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর কম্পিউটারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হতো।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক মনে করেন, শুধুমাত্র ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা ন্যায্য নয়। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অনেক সময় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। একই শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের মানের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হলে পাঠদান কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর নতুন ভর্তি পদ্ধতি কী হবে— তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে ভর্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে যেন শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় থাকে— সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক স্তরের ভর্তি ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন

