হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল, পুরনো ধরনই ছড়াচ্ছে দেশে
দেশে হামের পুরোনো ‘বি৩’ ভেরিয়েন্টই সক্রিয়, মৃত্যু ছাড়াল ৬০০
দেশে হামের পুরোনো ধরন ‘বি৩’ ভেরিয়েন্টেই শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। দেশের দুটি শীর্ষ পরীক্ষাগারে জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা গেছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বাইরে থেকে আসেনি; বরং বহু বছর ধরে বাংলাদেশে বিদ্যমান একই ভেরিয়েন্ট এখনো সক্রিয় রয়েছে।
সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও, হাম ও রুবেলা ল্যাবরেটরি এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পৃথকভাবে নমুনা পরীক্ষা করে একই ফল পেয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ‘বি৩’ ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ চলছে।
এদিকে দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে ৫১১ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুর মৃত্যুর পেছনেও হামই প্রধান কারণ। তবে পরীক্ষাগার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় সব ক্ষেত্রে রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত বড় প্রাণহানির ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুবা জামিল জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫টি নমুনা বিশ্লেষণ করে ‘বি৩’ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। একইভাবে আইইডিসিআরের মে মাসে পরীক্ষা করা ৩৮টি নমুনাতেও একই ভেরিয়েন্ট পাওয়া গেছে।
বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত হামের ২৪টি ভিন্ন ধরন শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে প্রধানত ‘বি৩’ ভেরিয়েন্টই সক্রিয়। ২০১৭-১৮ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় ‘ডি৮’ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হলেও পরে আবার ‘বি৩’ ভেরিয়েন্টই প্রাধান্য পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য প্রমাণ করে যে রোহিঙ্গা শিবির থেকে হাম ছড়িয়ে পড়ার ধারণার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, কানপাকা, চোখের জটিলতা ও নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ মৃত্যুই নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ঘটছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে অতিরিক্ত ভেন্টিলেটর সরবরাহ, পৃথক হাম ওয়ার্ড চালু এবং ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালকে হাম রোগীদের জন্য নির্ধারণসহ নানা পদক্ষেপ নিলেও মৃত্যুহার এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, দেশে বর্তমানে হামের মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সূত্র: প্রথম আলো
মন্তব্য করুন

